সাভারে প্রবাসী ও ব্যবসায়ী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
শশুরবাড়ী কর্তৃক কোরিয়ান প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ হত্যার সাথে জড়িত আসামীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। শুক্রবার সকালে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের চাইড়া গ্রামে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা করা হয় ।
মানববন্ধন থেকে নিহতের স্বজনরা জানান, আমান উল্লাহ দীর্ঘ ১০ বছর কোরিয়াতে প্রবাসী ছিলেন। তিন বছর আগে বাংলাদেশে আসার পর পারিবারিকভাবে কেরানীগঞ্জের হযরতপুরের মাজহারুল হকের মেয়ে তাসনিম হক মৌরীর সাথে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী মৌরী পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। মৌরীর পরিবার ও তার পরকীয়া প্রেমিক রিফাত নিহত আমান উল্লাহ থেকে মৌরীকে ছাড়াতে এবং তার সম্পদ আত্মসত্ত্বের পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২ এপ্রিল আমান উল্লাহকে শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে গিয়ে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যার করা হয় । ময়না তদন্তের রিপোর্টে বিষয়টি সামনে আসে । এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও অদৃশ্য কারণে ৪ মাসে মূল আসামীদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
নিহত আমান উল্লাহর বড় ভাই মোঃ সুমন আলী জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার ভাইকে তার স্ত্রী তাসনিম হক মৌরী ঈদের সময় বাপের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় মৌরী কৌশলেবড়ি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা, ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ইউ এস ডলার, স্বাক্ষর করা ২০ লাখ টাকা মূল্যের চেকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সাথে নিয়ে যায়। এছাড়া ভাইয়ের মৃত্যুর ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় তাকে খাবারের সাথে বিষ এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে ।
নিহত আমান উল্লাহর মা জাহেরা বেগম বলেন, “আমার ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তার স্ত্রী তাসনিম হক মৌরী ও শশুর বাড়ির লোকজন মিলে তাকে হত্যা করেছে। অতি দ্রুত আমার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আর যেন কারও সন্তান শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হত্যার শিকার না হয়।
নিহতের স্বজন জহির ইসলাম বলেন, আমান উল্লাহ হত্যার ঘটনার প্রধান আসামী মৌরীসহ তার পরিবার এবং তার পরকীয়া প্রেমিককে গ্রেপ্তারে পুলিশ গড়িমসি করছে কেন? আমরা চাই এই হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সঠিক বিচারের আওতায় আনা হোক। না হলে আগামীতে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
নিহত আমান উল্লাহর ভাতিজা বলেন সবুজ বলেন, আমার চাচি তাসনিম হক মৌরী পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে আমার চাচাকে ঈদের সময় তাদের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাবারের সাথে বিষ খাওয়ায় এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। যা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রমাণিত। আমি আমার এই চাচার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে এসময় শিশু বৃদ্ধসহ কয়েকশো নারী পুরুষ অংশ নেয় । মানববন্ধন শেষে একটা বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চাইড়া এলাকা থেকে মুশুরীখোলা বাজার ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
প্রসঙ্গত,২০২৫ সালের ২ এপ্রিল দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুরচর বৌন্নাকান্দি গ্রামে শশুরবাড়ীতে হত্যার শিকার হন সাবেক এই কোরিয়া প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন, নিহত আমান উল্লাহর স্ত্রী কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুরচর বৌন্নাকান্দি গ্রামের মাজহারুল হকের মেয়ে তাসনিম হক মৌরী (২০) রাহিমা হক (৫০) মাজহারুল হক (৬০) রাকিবুল হক রাকিব (৩৫) মুন হক (২৭) কবির বয়াতি (৬২) ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের কুরাইশনগর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে পরকীয়া প্রেমিক রিফাত হোসেন রাহাত (২১)।

  • Related Posts

    আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচী

    সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: সাভারের আশুলিয়ায় ক্লথিং কার্নিভালস লিমিটেড নামক একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এসময় কারখানাটির ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সাথে…

    সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা করা হচ্ছে-তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    জামালপুর প্রতিনিধিঃ প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *