মন্ত্রীর পিএস অর্থ আত্মসাৎকারী বহুবিবাহের জনক প্রতারক আলী জাহিদ আত্মগোপনে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভুয়া বিসিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে এক নারীর সাথে প্রতারনা করে বিয়ে এবং পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপু মনির ঘনিষ্ট সহচর ডাঃ মোহাম্মদ আলী জাহিদ এর বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রতারনার বিষয়টি জানাজানানি হওয়ার পর ওই নারীকে ডিভোর্স প্রদান করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভুয়া সাক্ষর করে টাকা ফেরত প্রদান করা হয়েছে মর্মে একটি চুক্তিপত্র তৈরী করেছেন। এঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মোসাঃ মোস্তাফিয়া ফেরদৌসি বাদী হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার কোতয়ালী থানায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা (নং-০৩) দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত প্রতারক চক্রের মূল হোতা হলেন, বগুড়া জেলার সদর থানার গ্রাম কামার গাড়ী এলাকার মৃত অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোহাম্মদ আলী জাহিদ (৪৬)। বগুড়া শহরে তাহার সাইবারটেক প্রতিষ্ঠান নামে কম্পিউটার প্রশিক্ষন সেন্টার রয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে প্রতারক আলী জাহিদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।  

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগী নারী মোসাঃ মোস্তাফিয়া ফেরদৌসি বগুড়া শহরে সাইবারটেক নামক প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার কোর্স করার সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ আলী জাহিদের সাথে পরিচয় হয়। এসময় মোহাম্মদ আলী জাহিদ নিজেকে অবিবাহিত ৩৩ তম বিসিএস এ পাশকৃত চিকিৎসক এবং সাবেক মন্ত্রী ডাঃ দিপু মনির আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ট লোক হিসাবে পরিচয় দিয়ে ওই নারীর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে দুই লক্ষ টাকা দেনমোহরে মোসাঃ মোস্তাফিয়া ফেরদৌসিকে বিয়ে করেন।

বিবাহের পর হতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ পাইয়ে দেওয়াসহ বড় প্রজেক্ট ইনভেস্ট করার নাম করে ঋণ হিসাবে টাকা পয়সা বিনিয়োগ জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করিতে থাকে। এভাবে ২০১৯ হইতে ২০২৫ এর জানুয়ারী পর্যন্ত স্ত্রীর কাছ থেকে ঋন হিসেবে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন স্বামী আলী জাহিদ। পরবর্তীতে নগদে এবং চেকের মাধ্যমে দেয়া টাকাগুলো স্ত্রী মোস্তাফিয়া ফেরদৌসি ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে সময় নিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে।

টাকা-পয়সার কারনে তাহাদের মধ্যে বিচ্ছেদের পর্যায়ে চলে আসলে উক্ত টাকা গ্রহন এবং প্রদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিন শত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে “ঋণের অর্থ ফেরত প্রদান বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিপত্র” শিরোনামে স্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে স্বামী জাহিদেকে তালাক কার্যকরের সময় ধার হিসাবে প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে স্ত্রীকে সব টাকা ফেরত প্রদান করা হয়েছে মর্মে নোটিশ করেন প্রতারক জাহিদ। এঘটনায় ধারের টাকা ফেরত পেতে প্রতারক মোহাম্মদ আলী জাহিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোস্তফিয়া ফেরদৌসী।

ভুক্তভোগী অভিযোগ, মোহাম্মদ আলী জাহিদ কোরআনে হাফেজ এবং বিসিএস পাশকৃত সরকারি চিকিৎসক পরিচয় দিলেও বিয়ের পর বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এর ওয়েব সাইটে তার তথ্যসমূহ সার্চ দিয়ে এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র হইতে জানতে পারি সে কোন বিসিএস গেজেটেড ডাক্তার নন। এভাবে ভুয়া স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে সে বহু মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে সে একজন প্রাপ্ত কোচিং ব্যবসায়ী (বিসিএস এর কোচিং) যিনি ডিভোর্সি সম্পদশালী নারীদের টার্গেট করে ইসলামী কথাবার্তা দিয়ে আকৃষ্ট করে তাদের নিকটে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিবাহ করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। আমি তাকে বিয়ের পর তার স্ত্রীদের পরিচয় পেয়ে জানতে পারি আমার আগেও সে আরও তিনটি বিয়ে করেছে। আমি প্রতারক জাহিদ ও তার সহযোগীদের বিচার চাই। এছাড়া প্রতারনার মামলা দায়েরের পর আসামী জাহিদ ও অন্যান্য সহযোগী আসামীরা পলাতক আছেন। যে কোন সময় তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানান ভুক্তভোগী।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ লিটন মিয়া বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আমরা আসামীদের গ্রেপ্তারে তৎপর আছি। এছাড়া আসামীরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য মামলার কপিটা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছেও দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্র্রই আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

  • Related Posts

    আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচী

    সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: সাভারের আশুলিয়ায় ক্লথিং কার্নিভালস লিমিটেড নামক একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এসময় কারখানাটির ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সাথে…

    সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা করা হচ্ছে-তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    জামালপুর প্রতিনিধিঃ প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *