সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ বর্তমান সরকার বারবার তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সরকার মব জাষ্টিস কোনভাবেই বরদাস্ত করে না। যেখানেই মব জাষ্টিস হচ্ছে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিবেশবাদী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শনিবার সাভারে ঢাকা জেলার পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘উন্নত ঢাকা জেলা উদ্যোগ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এখন আর অন্যায় মুখ বুজে মেনে নিচ্ছে না। আগে আমরা ভাবতাম, জনগণ সংগঠিত নয়, তাই আমরা অন্যায় করে পার পেয়ে যাব। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নানা জায়গায় মানুষ সংগঠিত হয়ে প্রতিবাদ করছে। অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন সোচ্চার।
উপদেষ্টা এসময় আরও বলেন, ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকার বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও ধুলাবালির ভয়াবহতা রোধে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। গাছ লাগানোই এই পরিবর্তনের পথের প্রথম ধাপ। শুধু চারাগাছ লাগালেই হবে না, সেগুলো রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব। উন্নয়নের জন্য গাছ কাটা অপরিহার্য হলে একটি গাছ কেটে তিনটি লাগাবো। এছাড়া ক্ষতিকর পলিথিন এবং যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানো যাবে না। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে চালকদের হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকাতে হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘গত ১১ মাসে প্রচুর ইটভাটা ভাঙা হয়েছে। সাভারের বেশির ভাগ লাইসেন্সের মেয়াদ শেষের দিকে। যেসব ইটভাটার মেয়াদ চলে যাবে, নবায়ন না করলে তার আর বৈধতা থাকবেনা। তখন যেসব ইটভাটা অবৈধ হয়ে যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও সাভারের বলিয়ারপুর এলাকার মধুমতি মডেল টাউনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এটা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দেখবে। তবে আদালত কর্তৃক যেটা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) মধুমতি মডেল টাউনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। এই জলবায়ু পরিবর্তন কিন্তু আমাদের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলছে। জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে কয়লা ও গ্যাসের পরিবর্তে সোলার ব্যবহার করতে হবে। বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। তাহলে কার্বনের পরিমাণ কমবে। তখন তাপমাত্রা আর বাড়বে না। এ জন্য সরকারি সব অফিসে সোলার স্থাপন করা হবে। সাভারের কর্ণপাড়া খাল ও তুরাগ নদী দখল ও দূষণ রোধে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, আমিনবাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাভারের ট্যানারি ইস্যুতে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে।
ঢাকার জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোসাম্মাৎ মাহমুদা রোকসানা, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এবং সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সরকার।







