সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: সাভারের বক্তারপুর এলাকায় ঋণের বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার জেরে আহসান উল্লাহ স্বপন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং পুরুষাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীর ছেলে মেহেদী হাসান শ্রাবন (২২) বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞানামাদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, ঢাকা জেলার সাভার থানার বক্তারপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হোসেন পাগলার ছেলে মোঃ ফারুক হোসেন (৪৫), তার ছেলে মোঃ ফয়সাল (২০), একই গ্রামের আঃ হাকির ছেলে মোঃ রফিক (৪২), বারেকের ছেলে নজরুল (৩৮), সুলতান (৪৫) এবং কুটি মোল্লাসহ (৪০) অজ্ঞাতনাম ৫-৬ জন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাভার থানাধীন বক্তারপুর এলাকার ‘বংশী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেড’ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ঋণের টাকা পরিশোধের শর্তে প্রায় ১ বছর আাগে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন এক নম্বর অভিযুক্ত ফারুক হোসেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত ১২০ দিন পার হয়ে গেলেও ফারুক হোসেন ঋণের টাকা পরিশোধ করেননি। এঘটনায় অভিযোগকারীর বাবা ভুক্তভোগী আহসান উল্লাহ স্বপন ওই সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সময় ঋনের টাকা চাইলে দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে ফারুক হোসেন। একপর্যায়ে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো পাওনাদারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় ব্যবসায়ী আহসান উল্লাহ স্বপন তার বাড়ির গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে পায়চারি করার সময় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিছন থেকে সুইচ গিয়ার দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে। এসময় অন্যান্য অভিযুক্তরা তাঁর মাথা, গালের বাঁ পাশ, বাম হাত ও পেটে রামদা দিয়ে আঘাত করে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে অভিযুক্তরা তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললে সে অজ্ঞান হয়ে যা। এঘটনায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গুরুতর আহত আহসান উল্লাহ স্বপনকে উদ্ধার করে স্থানীয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগকারী মেহেদী হাসান শ্রাবন বলেন, ‘আমার বাবা সমিতির ঋণের টাকা চাইতে যাওয়ায় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্তরা যেকোনো সময় আমাদের আরও ক্ষতি করতে পারে। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াহাব বলেন, প্রাথমিকভাবে লিখিত অভিযোগে হামলার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে কি কারনে এই ঘটনা ঘটনানো হয়েছে তা বিস্তারিত তদন্ত করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





