সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারে নিত্যদিনের দুর্ভোগের অপর নাম গ্যাস সংকট। সাভার পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাসসংকটের কারনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। পৌর এলাকার অনেক স্থানে দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। রাতে কিছুটা পাওয়া গেলেও তার পরিমাণ খুবই নগণ্য। আবাসিক এলাকায় এমন গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এই অবস্থায় রবিবার দুপুরে বাসা বাড়িতে নিরিবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে সাভারে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পিএলসি সাভার আঞ্চলিক অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এসময় সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী ও পুরুষসহ কয়েকশ গ্রাহক গ্যাস অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
বিক্ষোদ্ধ গ্রাহকরা এসময় অভিযোগ করেন, গত দুই মাস ধরে তারা বাসা বাড়িতে গ্যাস পাচ্ছেনা। যার ফলে রান্নাবান্না করতে না পারায় বেশিরভাগ সময় হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। অনেকেই লাকড়ির চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও ইলেকট্রিক চুলা দিয়ে বিকল্প হিসেবে চালিয়ে নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সেন্টু মিয়া বলেন, দীর্ঘ ১ বছর ধরে আমাদের গ্যাসের সমস্য হচ্ছে। গহ দুই মাস ধরে গ্যাস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছেনা। তারপরও আমরা নিয়মিত গ্যাস বিল দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু বিল পরিশোধ করার পরও গ্যাস না পাওয়ায় আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা এই দুর্দশা থেকে মুক্তি চাই। গ্যাস দিতে না পারলে কর্র্তপক্ষ আমাদের গ্যাস বন্ধ করে দিক। আমরা বিল দিবো কিন্তু গ্যাস পাবোনা সেটা হবেনা।
পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজিব হোসেন বলেন, রাত ১২ টায় গ্যাস আসে ভোর ৬টায় চলে যায়। এজন্য আমাদের মা-বোনেরা রাতে ঘুম বাদ দিয়ে ২টার সময় উঠে রান্না করছে। কিন্তু আজ দুই মাস হলো ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১ ঘন্টাও গ্যাস থাকেনা। বার বার জানানোর পর কর্র্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। তারা গ্যাস দিতে না পারলে আমাদের বলে দিক, প্রয়োজনে আমরা সিলিন্ডার ব্যবহার করবো। কিন্তু প্রতি মাসে বিল নিবেন কিন্তু গ্যাস দিবেন না এটাতো হতে পারেনা। অবিলম্বে আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কাজী মোকমাপাড়া এলাকার গৃহীনি পারভিন আক্তার বলেন, আজকে ৩মাস ধরে চুলা এক মিনিটের জন্যও জ¦লেনা। অথচ আশপাশে নতুন নতুন বিল্ডিং হচ্ছে, প্রতিটি বাড়িতে অবৈধ গ্যাস জ¦লছে, তাদেরতো কোন সমস্যা হচ্ছেনা। আমরা নিয়মিত বিল দিয়েও কেন গ্যাস পাবোনা। তাই অবিলম্বে প্রতিটি বাড়িতে দেয়া অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ এসব চোরাই গ্যাস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বৈধ গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া যতদিন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না যাবে ততোদিন গ্যাস বিল বন্ধ রাখারও দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
একপর্যায়ে বিক্ষোদ্ধ গ্রাহকরা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (গাজীপুর) ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় গ্রাহকরা তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাদের সমস্যা সমাধানের তাগিদ দেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়রি দেন গ্রাহকরা।
জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (গাজীপুর) ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা আপাদের সমস্যার কথা জানলাম এবং বিষয়টি আমলে নিয়ে কোথায় কোথায় সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিন দিনের আল্টিমেটামের বিষয়ে তিনি বলেন, তিন দিনের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবেনা আরও কিছু সময় লাগতে পারে। তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করবো।





