সাভারে টিসিবি ডিলার মেহেদী-লিপন ওজনে কম দিয়ে বেশি টাকা আদায় করছে

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারের টিসিবি ডিলার মেহেদী এন্টার প্রাইজ এবং লিপন এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে পন্য ওজনে কম দেয়াসহ সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে প্যাকেজ বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি সরেজমিনে অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। রবিবার সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদের কলমা, চাপাইন এবং মিটন এলাকার টিসিবি কার্ডধারী সেবা গ্রহীতাদের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে কলমা এলাকায় সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদের মূল ফটকে গিয়ে টিসিবি ডিলার মেহেদী এন্টার প্রাইজের লোকজনকে টিসিবি’র কার্ডধারীদের নির্ধারিত পন্য বুঝিয়ে দিতে দেখা যায়। এসময় সেখানে দুইজন গ্রাম পুলিশের সামনেই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের দৃশ্য দেখা যায়। পরে টিসিবি পন্য গ্রহীতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজনের পন্য পাশর্^বর্তী দোকানে নিয়ে ওজন দেয়া হলে প্রতি প্যাকেটে ৫০-১০০ গ্রাম কম দেওয়ার (বস্তাসহ) সত্যতা পাওয়া যায়। এ

এবিষয়ে জানতে চাইলে মেহেদী এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি ভুলে হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমাদেরকে টাকা বেশী নিতে বলা হয়েছিলো কিন্তু এখন তারা অস্বীকার করছে। আমরা এখন থেকে আর অতিরিক্ত টাকা নেবোনা এবং ওজন সঠিকবাবে দিবো।

সাভার ইউনিয়ন পরিষদের টিসিবি’র পন্য তদারকির দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ সুরুজ মিয়া বলেন, সকালে লিপন এন্টারপ্রাইজের টিসিবি’র প্যাকেড নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০ টাকা বেশী নিয়ে ৫৫০ টাকায় বিক্রী করা হয়েছে। একইভাবে মেহেদী এন্টারপ্রাইজও বেশী টাকায় পন্য বিক্রয় করছে।

টিসিবি’র কার্ডধারী বিলকিস বেগম বলেন, প্রতি প্যাকেটে চাউল, ডাউল এবং চিনি কম থাকে এবং টাকাও বেশী নিচ্ছে। বেশী টাকা না দিলে পণ্য দিতে চায়না। আমরা কার কাছে বলবো। এছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেয়ার প্রতিবাদ করলে তাকে পন্য দেয়া হয়না। তাই বাধ্য হয়ে সবাই তাদের কথামতো চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিনিধি বলেন, আমি এলাকার মানুষের সুবিধার্থে তাদের কার্ড দিয়ে প্যাকেজগুলো নিয়ে দেই। আমিও মিটন এলাকার ডিলার লিপন এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ৭৬টি প্যাকেজ নিয়েছি। একই কথা জানালেন একজন গ্রাম পুলিশও। তিনি ১১শ টাকা দুটি প্যাকেজ কিনেছেন।

এবিষয়ে জানতে লিপন এন্টারপ্রাইজের মালিককে ফোন দেয়া হলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে তথ্য প্রমান দেয়া হলে তিনি বলেন, টিসিবি’র পন্য আমাদের গুদাম থেকে নেয়ার কথা থাকলেও কার্ডধারীদের সুবিধার জন্য তাদের এলাকায় গিয়ে দেয়া হয়। সেখেত্রে আমাদের যে ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ হয় সেটি পুষিয়ে নিতেই ১০ টাকা করে বেশী নেয়া হয়।

সাভার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, জনগনের কাছ থেকে কোনভাবেই অতিরিক্ত টাকা নিয়ে টিসিবি’র পন্য বিক্রয় করা আমি সমর্থন করিনা। এছাড়া ওজনে কম দেয়াসহ তাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমি বিষয়টি পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলায় রিপোর্ট করবো যেন তাদের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবুবকর সরকার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযুক্ত টিসিবি ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • Related Posts

    আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচী

    সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: সাভারের আশুলিয়ায় ক্লথিং কার্নিভালস লিমিটেড নামক একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এসময় কারখানাটির ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সাথে…

    সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা করা হচ্ছে-তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    জামালপুর প্রতিনিধিঃ প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *