সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারের আগুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সদরপুর এলাকায় দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় রাতের আঁধারে একটি পরিবারের সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ৫ জনকে হাসপাতালে যেতেও বাঁধা প্রধান করে তারা। পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আহতদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে আশুলিয়ার পূর্ব সদরপুর এলাকার আহাম্মেদ আলীর বাড়িতে এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সন্ত্রাসীদের হামলায় আহতরা হলেন, পূর্ব সদরপুর এলাকার সফর আলীর ছেলে বাড়ির গৃহকর্র্তা আহাম্মেদ আলী (৪০), তার স্ত্রী শিল্পি আক্তার (৩২), মেয়ে আফরিন সুলতানা (১৭), ছেলে সাদ (৪) ও উসমান (৭)।
আহত শিল্পী আক্তার অভিযোগ করেন, তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে আক্কাস মন্টুসহ ১৫ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুক্রবার রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ১৫-২০ টি মোটরসাইকেলে করে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। মন্টুর ছেলে সাজ্জাদ, মানিক, সাইফুল রাসেল, আরাফাত, রাফি, রাব্বি, ইসমাইলসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা আমার ঘরে ঢুকে ভাংচুর করে এবং লুটপাট চালায়। তারা আমাদের ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, আড়াই ভরি স্বর্নলঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া মেয়েকে টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আমরা বাসা থেকে বের হলে কিংবা থানায় অভিযোগ করয়ে আমাদেরকে জবাই করে হত্যার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।

শিল্পী আক্তার আরও জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং বিচারের দাবি জানাই।
হামলায় গুরুতর আহত আহাম্মেদ আলী বলেন, শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে স্থানীয় মন্টুর ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের নেতৃত্বে সাইফুল, রাসেল ইসমাইলসহ ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী আমার বাসায় ডাকাতির করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। আমি তাদেরকে বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে আমার হাতের আঙ্গুল পড়ে গেছে। আমাকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে সকালে আমরা বাসায় এসেছি। এখনও সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে এলাকার মানুষের উপর বিভিন্নভাবে জুলুম অত্যার চালিয়ে আসছে। এলাকায় কোন কিছু করতে হলে তাদেরকে চাঁদা দিতে হয়। এসব কাজ করার জন্য তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, রাতের আঁধারে আহাম্মেদ আলীর বাসায় যেসব সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে তারা আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোক্তার মন্ডলের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য। মোক্তার মন্ডলের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সখ্যতা থাকায় তার নাম ভাঙ্গিয়ে মোক্তার মন্ডল, শাহজাহান সাজু, মন্টু ও মানিকসহ চক্রের সদস্যরা নানা অপকর্ম করে থাকে।
এদিকে হামলা এবং লুটপাটের বিষয়ে জানতে সন্ত্রাসীদের গডফাদার অভিযুক্ত মোক্তার মন্ডল, মন্টুর নাম্বারে কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত শাজাহান সাজুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তিনি ঘটনাটি মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু হামলার সাথে তিনি জড়িত নন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।





