সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) লাইভস্টক একাডেমিতে কোনো ধরনের লিখিত অনুমোদন ছাড়াই আটটি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে কেটে ফেলা গাছগুলো ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে তা দেখা যায়। পরে কাটা গাছের আলামতও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কলমা এলাকার এম এম মুন্সী স’মিল এন্ড টিম্বার-এর মালিক ইউসুফ মিয়া গাছগুলো কেটে নিয়ে যান। সরেজমিনে গিয়ে একাধিক গাছ কাটার চিহ্ন এবং পড়ে থাকা গাছের অংশ দেখা যায়। এ সময় ভ্যানে করে কাটা গাছগুলো সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে এম এম মুন্সী স’মিল এন্ড টিম্বারের মালিক ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘গাছগুলো কেটে আনা হয়েছে। এগুলো ভাঙিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য আসবাবপত্র তৈরি করা হবে।’

তবে গাছ কাটার জন্য কোনো লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিএস লাইভস্টক একাডেমির পরিচালক এ.কে.এম হুমায়ুন কবীর বলেন, দুটি গাছ ঝরে পড়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ হচ্ছিল। এ ছাড়া কয়েকটি গাছ মরে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ জন্য কোনো লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
পরিচালক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে মিটিং করে সমাধান করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এর আগে মিলিটারি ফার্মের ভেতরে একটি গাছ পড়ে গেলে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধে সেটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ওই গাছের কাঠ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েকটি ছোট আলমারি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মেরামতকাজের জন্য বরাদ্দ থাকা অর্থ ব্যবহার করে কাটা গাছের কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করা হবে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক লিখিত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। লিখিত অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার নিয়ম নেই বলেও দাবি করেন তিনি। গাছ কাটার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি বিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।
ওই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, পরিচালক মাঝে মাঝে অনুমতি ছাড়াই অফিস কক্ষে অবস্থান করেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক এ.কে.এম হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি সেখানে পরিবার নিয়ে থাকেন না। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় তদারকির প্রয়োজনে মাঝে মাঝে সেখানে অবস্থান করতে হয়। খাবারও তিনি বাইরে থেকে কিনে খান বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কিছু কর্মচারী নিজেদের ইচ্ছামতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। আমি এখানে অবস্থান নিয়ে সেগুলো খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।




